Saturday , January 20 2018
Breaking News
Home / featured / মুই কী হনু! শান্তনু মিশ্র

মুই কী হনু! শান্তনু মিশ্র

Nblive পোর্টজিনঃ  বিভিন্ন সংগঠন তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে মিছিল অর্গানাইজ করে। আর সেই মিছিলের শেষপ্রান্তে হাঁটা সবচেয়ে নিরীহ লোকটির কাছে পৌঁছে যায় ক্যামেরা। জানতে চাওয়া হয়, আজ এই মিছিল কেন? এর উদ্দেশ্যই বা কী? উনি অকপট নিজের অজ্ঞতা ছুপিয়ে আবারও হাঁটতে থাকেন জিন্দাবাদে মুর্দাবাদে। আমরা খিলখিলিয়ে হাসি। শুধু তাই নয়, সন্ধের চর্চায় হামেশাই উঠে আসে এই নিরীহ ভিড় বাড়ানো চাউনির অজ্ঞতা।

মিছিল শেষে নেতা/নেত্রী, তাদের বক্তব্যে অভিনন্দন জানান এই “স্বত:স্ফূর্ত”(?) উপস্থিতিকে। কেননা, এই উপস্থিতিই তাদের সংগঠনের মাসল স্ট্রেন্থ। দেখিয়ে দেওয়ার মতো একটা ব্যাপার…

এবার আসি প্রসঙ্গে। যৌন নির্যাতন। আচ্ছা, যৌন নির্যাতন কী? ঠিক কত বয়েস পেরোলে বস্তুটা বোধগম্যতার আওতায় আসে! রায়গঞ্জের বন্দর এলাকা কিংবা জি. ডি. বিড়লা… পুঁচকে দুটিও জানতেন না যৌনতা কী বা যৌন-চেতনায় নির্যাতন শব্দটার প্রয়োগ হয় কখন। ওদের তো এখন ভরপুর আদর পাওয়ার বয়েস। গাল টিপে দেয়ার বয়েস। আদরের কায়দাটা বদলে গেলেই যে সেটা নির্যাতন হয়ে ওঠে, ওদের বোধে এই হিসেবটাই নেই। তবু এ অদ্ভুত আঁধারে নির্যাতিতার লিস্টিতে ওঁরা।

যাই হোক, শহরে এ ঘটনার প্রতিবাদ হয়েছে। মিছিল। প্ল্যাকার্ড। বেশ হয়েছে। মানুষকে সচেতন করার জন্য এই পদ্ধতিটা হয়তো জরুরিই।

কিন্তু কাদের দিয়ে করানো হল প্রতিবাদ? যাদের দিয়ে করানো হল, তারাও তো পুঁচকে। কেন করলো তারা প্রতিবাদ, ওরা কি জানে? ওদের কি আয়োজকরা বুঝিয়েছেন যে ওরা রাস্তায় কেন?

যৌনতা কী এবং যৌন অনিচ্ছার কোন্ সীমানা পেরিয়ে গেলে তা নির্যাতন হয়ে ওঠে, এ শিক্ষা ওরা পেয়েছে তো? যদি পেয়ে থাকে তবে, তা নেওয়ার মতো ম্যাচ্যুরিটি ওদের আছে তো?

বিষয়টা হল, ছবি দেখে যেটুকু বোঝা যাচ্ছে, তাতে এই পুঁচকেরা বিভিন্ন বয়সী। “যৌন নির্যাতন” এই শব্দবন্ধের সাথে পরিচিত হওয়ার বয়স এরা পেরোয়নি অনেকেই… বা প্রায় সকলেই। তবে এঁদের নিয়ে টানাটানি কেন?

সংগঠনের ভাবমূর্তি ইত্যাদি রক্ষার ক্ষেত্রে “প্রতিবাদ”- শব্দ হিসেবে খুব মুখরোচক, না! মিছিল শেষে “স্বত:স্ফূর্ত” উচ্চারণের মজাটাই আলাদা। তাই তো?

যাই হোক, যার যা ইচ্ছে করুক। হনু হয়ে উঠুক যে কোনো মুই।

তবে আমার চাহিদা যৎসামান্যই—
মিছিলের শেষপ্রান্তে হাঁটা সেই নিরীহ লোকটিকে বিচারক সাজিয়ে এই লেখাটি পক্ষে ও বিপক্ষে দুইবার পাঠ করা হোক।

আরও দেখুন

গণতন্ত্র নেই বঙ্গে, পুলিশ দিয়ে চলছে রাজ্য, শিলিগুড়িতে বিস্ফোরক মুকুল

Nblive শিলিগুড়িঃ পশ্চিমবাংলায় গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্রের পরিবেশ ধ্বংস করছে তৃণমূল সরকার। হাইকোর্টের রায়ে প্রতিরোধ সঙ্কল্প …