Sunday , October 22 2017
Breaking News
Home / featured / প্রবল বর্ষণ উত্তরবঙ্গে, লাল-হলুদ সতর্কতা একাধিক নদীতে, নৌকায় এলাকা পরিদর্শন রায়গঞ্জে 

প্রবল বর্ষণ উত্তরবঙ্গে, লাল-হলুদ সতর্কতা একাধিক নদীতে, নৌকায় এলাকা পরিদর্শন রায়গঞ্জে 

Nblive ওয়েব ডেস্কঃ গত কয়েকদিনের ব্যাপক বৃষ্টিপাতের জেরে বন্যা পরিস্থিতি উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর ও চোপড়ায়। ডোক নদীর জলে প্লাবিত ইসলামপুরের মাটিকুন্ডা, রবীন্দ্রনগর কলোনী,রাঙাগছ, সুভাষনগর সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত। প্লাবিত পুরসভার বিভিন্ন অঞ্চল। স্পিড বোট কাজে লাগিয়ে জলবন্দী মানুষদের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া ও উদ্ধার কাজ শুরু করতে চলেছে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসন। এদিকে রাতভর বৃষ্টিপাতের জেরে জলমগ্ন রায়গঞ্জের একাধিক এলাকা। জলবন্দী বীরনগর, ইন্দিরাকলোনি, রবীন্দ্রপল্লী, অশোকপল্লী, নেতাজীপল্লী এলাকার বাসিন্দারা। নৌকা নিয়ে এলাকা পরিদর্শনে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অর্ণব মন্ডল।

লাল সতর্কতা জারি কেশবনগরের তোর্ষা ও তুফানগঞ্জের রায়ডাক নদীতে। জলের স্রোতে
তুফানগঞ্জের দেওচড়াইয়ে ভেঙে গিয়েছে গদাধর নদীর বাঁধ। প্লাবিত বালাঘাট গ্রাম। একই অবস্থা কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের ঘুঘুমারী এলাকাতে। ওই এলাকায় ঢুকেছে তোর্ষা নদীর জল। কালজানি নদীর জলে প্লাবিত কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের থানেশ্বর গ্রাম। জলবন্দী প্রচুর মানুষ। বিপদসীমা প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে নদীর জল। টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ নদীর বাঁধও। টানা বৃষ্টিতে কোচবিহার, দিনহাটা, তুফানগঞ্জ মাথাভাঙ্গা প্রায় সর্বত্রই জল থৈ থৈ অবস্থা।


হলুদ সতর্কতা জারি মাথাভাঙ্গার মানসাই নদীতে। প্রবল বর্ষণে জলস্তর বাড়ছে কালজানি, সংকোষ , গদাধর নদীতে। ইতিমধ্যেই বন্যার জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলরামপুরের সড়েয়ারপাড়া এলাকার এক যুবকের বলে জানা গেছে।

গত ২৪ ঘন্টায় উত্তরবঙ্গের বৃষ্টির পরিমানঃ

জলপাইগুড়ি – ২৯৫.২ মিলিমিটার
সেবক ১৪৭ – মিলিমিটার
গাজোলডোবা – ১৪২.৪ মিলিমিটার
নেওড়া – ১৭১. ৮ মিলিমিটার
দোমহনি – ২৫৩. ৮ মিলিমিটার
নাগরাকাটা – ১১৮.৬ মিলিমিটার
ডায়না – ২৩১.৯ মিলিমিটার
মুর্তি – ২০৪ ৮ মিলিমিটার
এন.এইচ ৩১ – ২৮৫.৬ মিলিমিটার
মাথাভাঙা – ১৮৭.৬ মিলিমিটার
হাসিমারা – ৪৭৮.১ মিলিমিটার
বারভিষা – ৪৪১.০ মিলিমিটার
চেপান – ৩৮১.৪ মিলিমিটার
আলিপুরদুয়ার – ৩৯০.৪ মিলিমিটার
বক্সা – ৪৪৫.০ মিলিমিটার
শিলিগুড়ি – ১৬০.০০ মিলিমিটার
রায়গঞ্জ – ১৫৮.০০ মিলিমিটার
হেমতাবাদ – ১৬১.০৩ মিলিমিটার
কালিয়াগঞ্জ – ১৮৬.০৬ মিলিমিটার
ইটাহার – ১৩৯.০৮ মিলিমিটার
করণদিঘি – ১০০.০৩ মিলিমিটার
ইসলামপুর – ৮৫.০৩ মিলিমিটার

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় শিলিগুড়িতে বৃষ্টি হয়েছে ১৬০.৪০ মিলিমিটারেরও বেশি। জলস্তর বাড়ছে মহানন্দায়। শহরের ভেতরেই উপড়ে গিয়েছে একাধিক গাছ। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জেরে জলমগ্ন অম্বিকানগর, হায়দারপাড়া, প্রকাশনগর সহ একাধিক এলাকা। বৃষ্টি ও নদীর জলে প্লাবিত আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। জল বাড়ছে শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া করলা নদীর। কংগ্রেস পাড়া, মহামায়াপাড়া, পরেশ মিত্র কলোনী,ষ্টেশন রোড,চুনিলাল রোড সহ কোমর জল শহরের একাধিক এলাকায়। জলমগ্ন আলিপুরদুয়ার মনোজিত নাগ বাস টার্মিনাস। লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে কালজানি নদীতে। পুর এলাকার একাধিক ওয়ার্ডেও জমেছে জল। এদিকে ভূটানে টানা বৃষ্টির জেরে জল বেড়েছে জলঢাকা নদীতে। জলঢাকা নদীর সংরক্ষিত ও অসংরক্ষিত এলাকায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। তিস্তার গজলডোবার ১৪ টি লকগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। সকাল ৮ টায় ২৬০১.৫৫ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে বালুরঘাট শহরের বেশীর ভাগ রাস্তা জলের নীচে । কিছু ওয়ার্ডে বাড়িতে জল ঢুকতে শুরু করেছে, টানা বৃষ্টির কারণে স্কুল, কলেজে চলছে অঘোষিত বন্ধ । বালুরঘাট শহরের উত্তমাশা, রামকৃষ্ণপল্লী, ছাত্রপল্লী, ব্রত সংঘ, চৌরঙ্গী, নেপালী পাড়া, যুক্ত সংঘ, কবিতীর্থ পাড়া, বটতলা সহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে জল । সকাল থেকে বালুরঘাট পুরসভার কাউন্সিলরা এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে। প্রশাসন ও নজর রাখছে জেলাজুড়ে ।
দক্ষিণ দিনাজপুর সেচ দফতরের আধিকারিক অশোক গাঙ্গুলী জানান, জেলার চারটি নদী আত্রেয়ী, পুনর্ভবা, টাঙ্গন ও যমুনা এই নদী গুলির মধ্যে পুনর্ভবা নদীর জল সব থেকে বেশি ।বাকি তিনটি নদীর অবস্থা ভাল। ভয়ের কোন কারণ এখনও নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও দেখুন

ঝোড়ো হাওয়ায় জাতীয় সড়কের ওপর ভেঙে পড়ল আলোকসজ্জার গেট

Nblive আলিপুরদুয়ারঃ আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা শহরে আজ প্রায় ৯’টা নাগাদ ঝোড়ো হাওয়ায় ভেঙে পড়লো আলোকসজ্জার …