Thursday , August 17 2017
Breaking News
Home / featured / লাগাতার বৃষ্টি উত্তরবঙ্গ জুড়ে, বিপর্যস্ত জনজীবন সাত জেলায়

লাগাতার বৃষ্টি উত্তরবঙ্গ জুড়ে, বিপর্যস্ত জনজীবন সাত জেলায়

Nblive ওয়েব ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে এক টানা বৃষ্টিতে  বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের জনজীবন। কোচবিহার থেকে মালদা উত্তরের সাত জেলাতে লাগাতার মুষলধারা বৃষ্টির জেরে ফুলে ফেঁপে উঠেছে উত্তরের সব নদী। হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি নদীতে। টানা বৃষ্টিতে ভাসছে রাজার শহর কোচবিহার।  বিপর্যস্ত শহরের জনজীবন। টোটো রিক্সা সহ ছোটো যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রয়েছে  শহরে। পুর এলাকার ২০টি ওয়ার্ডের রাস্তাই জলমগ্ন। ২,৩,১৭ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ বাড়িতেই ঢুকেছে জল।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে  কোচবিহারের তোর্সা, মাথাভাঙ্গার মানসাই, তুফানগঞ্জের রায়ডাক নদীতে হলুদ  সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। ২০ ওয়ার্ড বিশিষ্ট শহরে বেড়েছে জনসংখ্যা। আর ঘিঞ্জি হয়েছে শহর। নাগরিকদের চাপের মুখে পরিষেবা দিতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে পুরসভাকে।  নিকাশি সমস্যা নিয়েছে চরম আকার। বৃষ্টির জমা জলেই তাই ভাসছে রাজার শহর। শুক্রবার  ভোর থেকে কোচবিহারের দেবীবাড়ি, রাজবাড়ির সামনের কেশব রোড, দিনহাটা রোড, ব্যাংচাতড়া রোড, রাসমেলার মাঠ জলে থইথই করতে থাকে। শহরের লাইফ লাইন সুনীতি রোডের কিছু অংশেও জল জমে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার ছবি উঠে এসেছে জলপাইগুড়ি পুর এলাকায়। লাগাতার বৃষ্টিতে জলমগ্ন শহরের একাধিক এলাকা। মহামায়া পাড়া, চুনিলাল রোড, জয়ন্তী পাড়া, স্টেশন রোড সহ একাধিক এলাকাতে জমেছে প্রায় হাঁটু জল। ফলে চরম সমস্যায় পড়েছেন  স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া থেকে অফিস যাত্রীরা।
এই পরিস্থিতির জন্য মূলত শহরের বেহাল নিকাশি ব্যবস্থাকেই দায়ী করছেন শহরের বাসিন্দারা। তাঁদের

অভিযোগ, শহরের জল নিকাশি ব্যবস্থা চিরকালই অনুন্নত। অল্প বৃষ্টিতেই প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডই জলমগ্ন হয়ে পড়ে। চরম বিপাকে পড়তে হয় বাসিন্দাদের। বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে হাইড্রেন তৈরি হলেও এই সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি।  এদিকে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে পুরসভার পক্ষ থেকে বলে জানা গেছে।

গত ২৪ ঘন্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমানঃ

তুফানগঞ্জঃ ৪৩০.২০মি.মি.

জলপাইগুড়িঃ ৭৭.৬০মি.মি.

আলিপুরদুয়ারঃ ১৩২.৮০মি.মি.

কোচবিহারঃ ২৪৬.৬০মি.মি.

শিলিগুড়িঃ ১২৬.০০ মি.মি.

মালবাজারঃ ১৩৭.৫০মি.মি.

হাসিমারাঃ ১৭৬.৪০ মি.মি.

মাথাভাঙাঃ ১৫২.৮০মি.মি.

ময়নাগুড়িঃ ৬৫.০০ মি.মি.

রায়গঞ্জঃ ৬৮.০০ মি.মি.

হেমতাবাদঃ ৪০.০১ মি.মি.

কালিয়াগঞ্জঃ ৭৬.০৬ মি.মি.

ইটাহারঃ ৪৪.০৬ মি.মি.

করণদিঘিঃ ৫৮.০২ মি.মি.

ইসলামপুরঃ ৬২.০৫ মি.মি.

আজ সকালে তিস্তার গজলডোবা থেকে ১৯৭৪ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে কালজানি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে হলুদ সতর্কতা। পাশাপাশি মেখলিগঞ্জের তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় জারি করা হয়েছে  হলুদ সতর্কতা। এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতেও চলছে একটানা বৃষ্টি। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার জেরে জলমগ্ন বেশ কয়েকটি এলাকা।

আরও দেখুন

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি দক্ষিণ দিনাজপুরে, সাহায্য চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ বাম বিধায়ক

Nblive বালুরঘাটঃ দক্ষিণ দিনাজপুরে বন্যা পরিস্হিতির অবনতি। নদীর জল আরও বেড়েছে। আজ বংশীহারি ব্লকের নারায়ণপুরের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *