Thursday , August 17 2017
Breaking News
Home / featured / কুয়াশায় ঢাকা বোবা আলো আর দার্জিলিংঃ সপ্তম কিস্তি

কুয়াশায় ঢাকা বোবা আলো আর দার্জিলিংঃ সপ্তম কিস্তি

Nblive বিশেষ প্রতিবেদনঃ কুয়াশায় ঢাকা বোবা আলো আর দার্জিলিং। ছয়টি পর্বে দার্জিলিং-এর অজানা ইতিহাস, সংস্কৃতি, কৃষ্টি নিয়ে হাজির হয়েছিল nblive.in। তুলে ধরা হয়েছে ১৭৬৫ -২০১৭ সাল পর্যন্ত ২৫০ বছরেরও বেশি সময়কালকে। উঠে এসেছে দর্জেলিং থেকে দার্জিলিং হয়ে ওঠার কাহিনি। কিন্তু দার্জিলিং তো শুধুমাত্র মিষ্টি অভিজ্ঞতার সাক্ষী নয়। এই শহর… এই নামের সাথে যুক্ত রয়েছে তিক্ততাও। যা এখনও বিরাজমান। ১০৭ বছর থেকে চলছে পাহাড়ের রানীকে বাংলা থেকে আলাদা করার আন্দোলন। হিংসা… পাশাপাশি ঝড়েছে বহু মানুষের রক্ত। বারেবারেই রক্তাক্ত হয়েছে পাহাড়ি রানীর কোল। সপ্তম তথা শেষ পর্বে nblive.in হাজির হয়েছে সেই আন্দোলনের সময়পঞ্জী নিয়ে।

দেখে নেওয়া যাক সেই আন্দোলনের কিছু টুকরো মুহূর্তঃ

১৯০৭ – দার্জিলিং-এ প্রথম বার আলাদা প্রশাসনের দাবী ওঠে। হিলম্যান এসোসিয়েশন অফ দার্জিলিং লর্ড মিন্টোকে ভিন্ন প্রশাসনিক মর্যাদার জন্য স্মারকলিপি দেয়।

১৯১৭ – হিলম্যান এসোসিয়েশন ইংরেজ সরকার ও সেই সময়ের ভাইসরয়কে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি এলাকার আলাদা প্রশাসনিক মর্যাদার জন্য স্মারকলিপি দেয়।

১৯২৯ – সাইমন কমিশন আসার আগে হিলম্যান কমিশন তাঁদের দাবিতে গর্জে ওঠে।

১৯৩০ – হিলম্যান এসোসিয়েশন, গোর্খা অফিসার্স এসোসিয়েশন, কার্শিয়ং গোর্খা লাইব্রেরী – যৌথভাবে সরকারের কাছে তারা আবেদন করে বাংলা থেকে পৃথক হবার জন্য।

১৯৪১ – জনৈক রূপ নারায়ন সিনহার সভাপতিত্বে হিলম্যান এসোসিয়েশন সরকারের কাছে আবেদন করে বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হবার জন্য। পাশাপাশি মুখ্য কমিশনার বিভাগ হিসেবে দার্জিলিংকে তৈরি করার জন্যও এই আবেদন।

১৯৪৭ – স্বাধীন ভারতে অবিভক্ত কমিউনিস্ট দল আইন সভার কাছে “গোর্খাস্থান” গঠনের দাবী জানিয়ে ( দার্জিলিং ও সিকিম কে নিয়ে) স্মারকলিপি জমা দেয়।

১৯৫২ – অখিল ভারতীয় গোর্খা লীগ সভাপতি এন বি গুরুং প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর সাথে সাক্ষাৎ করেন, সাথে বাংলা থেকে আলাদা হবার আবেদন করেন।

১৯৮০ – প্রান্ত পরিষদের সভাপতি ইন্দ্র বাহাদুর রাই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে নতুন রাষ্ট্র গঠনের দাবীতে চিঠি লেখেন। সেই বছরই সুভাষ ঘিসিং নামে এক শিক্ষকের সাথে পরিচয় হয় দার্জিলিংবাসীর।

১৯৮৬ – জিএনএলএফ এর হিংসাত্মক আন্দোলন শুরু। বলি ১,২০০ প্রাণ।

১৯৮৮ – জিএনএলএফ,জ্যোতি বসু ও কেন্দ্রের মধ্যস্থতায় দার্জিলিং হিল কাউন্সিল গঠিত হয়।

২০০৭ – সুভাস ঘিসিংকে সরিয়ে দ্রুত আন্দোলনের নতুন মুখ হিসেবে উঠে আসে ঘিসিংয়েরই ডান হাত বিমল গুরুং। জন্ম নেয় নতুন দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। এই সময়ই পাহাড় আবার উন্মত্ত হয়ে পড়ে মোর্চার লাগাতার আন্দোলনে। এর বলী হয় ৩ জন মোর্চা সমর্থক। কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়পক্ষই ষষ্ঠ তফশিলের সংবিধান খানিকটা রদবদল করে ও স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা দিতে চাইলেও মোর্চা তাদের ভিন্ন রাজ্যের দাবীতে অনড় থাকে।

২০১১ – দীর্ঘ ৪ বছরের লাগাতার আন্দোলনের পর অবশেষে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর হস্তক্ষেপে কেন্দ্র, রাজ্য ও মোর্চা- ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের রফাসূত্র হিসেবে জিটিএ (গোর্খা টেরিটোরিয়াল এক্ট) গঠন হয়। সম্পূর্ণ স্বশাসিত ও গুরুংকে এর প্রধান নির্বাচিত করা হয়।

২০১৩ – ৩০ জুলাই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে নতুন রাজ্য তেলেঙ্গানা গঠনের প্রস্তাবের জন্য বিল পাশ করে। এই ঘটনা নতুন করে আগুনে ঘি ঢালে। ফলে গোর্খাল্যান্ড, বোড়োল্যান্ড (আসাম) পৃথক রাজ্যের দাবী আরোও বেশি জোরালো হয়ে ওঠে।

১৬ই আগষ্ট দার্জিলিংয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার আহ্বানে সব রাজনৈতিক দলের ম্যারাথন বৈঠকের পর অবশেষে গোর্খাল্যান্ড জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি তৈরি হয়। যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় – আন্দোলন সমানভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে, একাধিক (দলের) নামে বনধ ডাকা হবে। ১০৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বার, পাহাড়ের সমস্ত দল এক ছাতার নীচে আসতে রাজি হয়। সমস্ত দল মিলে একসাথে আন্দোলন চালিয়ে যাবে- এই সিদ্ধান্ত ও দায়িত্ব নেওয়া হয়।

কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবিতে তারা ১৮ আগষ্ট পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিভিন্ন কর্মসূচী “ঘড় ভিতরে জনতা” ( People Confided to Home) , পদযাত্রা, অবস্থান বিক্ষোভ যেমন মশাল জ্বালিয়ে, মানব শেকল, কালা ব্যান্ড, জাতীয় সড়ক অবরোধ সহ বিভিন্ন উপায়ে প্রতিবাদ চলতে থাকে।

২০১৭ – রাজ্যে বাংলা ভাষা, পাঠ্যে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব উঠতেই আন্দোলন থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখা মোর্চা ১০৭ বছরের দাবিকে সামনে রেখে ফের আন্দোলনের পথে নামে। “পাহাড়ে বাংলা বাধ্যতামূলক করা হবে না”- মুখ্যমন্ত্রীর এমন নির্দেশের পরেও আন্দোলন থেকে পিছু না হটে পাহাড়ে রাজ্য মন্ত্রীসভার বৈঠকের দিনই জ্বলে ওঠে পাহাড়। আগুন জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয় একের পর এক সরকারি সম্পত্তি। শুরু হয় অনির্দিষ্টকালের পাহাড় বনধ।
ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের বলি এখনও পর্যন্ত ৯ জন গোর্খাল্যান্ড সমর্থক। আহত পঞ্চাশেরও অধিক পুলিশ কর্মী।

 

(গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে পাহাড়ের এই ধ্বংসাত্মক আন্দোলন কতটা যুক্তিযুক্ত? আপনাদের মতামত লিখে পাঠান nblive.in-কে। আপনার মতামত প্রকাশ পাবে আপনাদের প্রিয় নিউজ পোর্টাল nblive.in- এ।)

আরও দেখুন

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি দক্ষিণ দিনাজপুরে, সাহায্য চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ বাম বিধায়ক

Nblive বালুরঘাটঃ দক্ষিণ দিনাজপুরে বন্যা পরিস্হিতির অবনতি। নদীর জল আরও বেড়েছে। আজ বংশীহারি ব্লকের নারায়ণপুরের …