Thursday , August 17 2017
Breaking News
Home / featured / কুয়াশায় ঢাকা বোবা আলো আর দার্জিলিং: চতুর্থ কিস্তি

কুয়াশায় ঢাকা বোবা আলো আর দার্জিলিং: চতুর্থ কিস্তি

Nblive বিশেষ প্রতিবেদনঃ

ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিজঃ

ফেব্রুয়ারি ১৮২৯, সীমানা নিয়ে ( বিশেষত “অন্ত দারা” নিয়ে) নেপাল-সিকিমের বিবাদ আবার চরমে ওঠে। তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল ছিলেন উইলিয়াম বেন্টিংক। তিনি দুজন অফিসারকে সেখানে পাঠান সমস্যা সমাধানের জন্য। তাদের একজন ক্যাপ্টেন জর্জ লয়েড ও অপরজন জে. গ্রান্ট। তো “অন্ত দারা” যাবার পথে এই দুজন অফিসার ৬ দিনের জন্য বিশ্রাম নিলেন দার্জিলিংয়ের “The Old Goorka Station Dorjeling” এ। লয়েড দেখলেন জায়গাটিতে মেরেকেটে ১০০ জন লেপচা হবে, যা  “স্বাস্থ্যনিবাস হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বেশ খাসা ও উপযুক্ত”। যেমন ভাবা তেমন কাজ। ১৮ জুন, ১৮২৯ লয়েড সরকারী উচ্চপদাধিকারীদের সাথে আলোচনা করছেন সেখানে স্বাস্থ্যনিবাস গড়ে তোলা যায় কিনা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই একই সময় আরেক অফিসার গ্র‍্যান্ট তিনিও সরকারকে আহ্বান করছেন সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য।

বেন্টিংকের এই প্রস্তাব মনে ধরে এবং তিনি সেখানে স্বাস্থ্যনিবাস ও সৈন্যঘাঁটি করতে রাজি হন। বেন্টিংক তৎকালীন ডেপুটি সার্ভেয়র জেনারেল ক্যাপ্টেন হার্বার্টকে দার্জিলিংয়ের এলাকা পরীক্ষার জন্য পাঠান। এর মধ্যে কোম্পানির ওপরমহল থেকে প্রস্তাবের সবুজ সংকেত আসে। জেনারেল লয়েড কে দায়িত্ব দেওয়া হয় সিকিম রাজার কাছ থেকে জমি লিজের ব্যাপারে মধ্যস্থতা করার জন্য। জমির লিজের জন্য দলিলের অনুদান মঞ্জুর করা হয় ১ ফেব্রুয়ারি, ১৮৩৫।

স্যানেটারিয়ামের প্রতিষ্ঠাঃ

১৮৩৫। ইন্ডিয়ান মেডিকেল সার্ভিসের সদস্য, জনৈক আর্থার ক্যাম্পবেলকে লিজ নেওয়া এলাকার এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা হয় ও লেফটেনেন্ট ল্যাপিয়রকে এলাকার উন্নয়নের জন্য নিযুক্ত করা হয়। ড: ক্যাম্পবেল ১৮৩৯ সালে স্বাস্থ্যনিবাসের প্রথম সুপার হন। এই সময়ই সমতলের সাথে দার্জিলিংয়ের সড়ক পথের সূচনা হয়।

চা বাগানের শুরুঃ

ড: ক্যাম্পবেল ১৮৪১-এ চীনের কুমায়ন অঞ্চল থেকে প্রথম চায়ের বীজ নিয়ে এসে পরীক্ষামূলক ভাবে চা উৎপাদন শুরু করেন। ক্যাম্পবেলের দেখাদেখি অন্য সাহেবরাও একই পদ্ধতি অনুসরণ করেন। ক্যাম্পবেলের পরীক্ষা সাফল্যের মুখ দেখে। ক্রমশ বাণিজ্যিক লাভের জন্য চা উৎপাদন শুরু হয়ে যায়।

ভারতের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে আত্মসাৎকরণঃ

দার্জিলিংয়ে চা উৎপাদন হবার পর থেকে সেখানে দ্রুত হারে চা বাগান খুলতে থাকে এবং বাণিজ্যিক উপকেন্দ্রে পরিণত হয়। দার্জিলিংয়ের এই সাফল্য ইংরেজদের খুশী করলেও সিকিমের রাজার ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দার্জিলিংয়ের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধির ফলে সিকিমে দেখা দেয় সমস্যা। সিকিম থেকে প্রচুর মানুষ বিশেষত মজুর শ্রেণীর লোকেরা জীবিকার সন্ধানে দার্জিলিংয়ে ভীড় করতে থাকে। এইভাবে বহু মানুষের রাজ্য থেকে চলে যাওয়া সিকিম রাজা মেনে নিতে পারছিলেন না এবং তলে তলে তিনি ইংরেজদের ওপর গোঁসা করতে থাকেন। অভিবাসীদের ফিরে আসার জন্য তিনি গোপনে জোরাজুরিও করতে থাকেন।
ড: ক্যাম্পবেল ও জোসেফ ডাল্টন ১৮৪৯ সালে সিকিম ভ্রমণে গেলে আচমকাই তাদের বন্দী করা হলে সম্পর্ক চূড়ান্ত অবনতির দিকে গড়ায়। এই ভাবে তাদের প্রায় ৪ সপ্তাহ বন্দী করে রাখা হয়। অবশেষে কোম্পানি, সাহেবদের উদ্ধারের জন্য একদল বাহিনী পাঠায় সিকিমের উদ্দেশ্যে। কিন্তু বাহিনী রঙীত নদী পৌঁছানোমাত্রই তাদেরকেও বন্দী করা হয়।

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ও ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য কিছু বছর পর ব্রিটিশরা পাহাড়ে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য সমগ্র দার্জিলিং জেলাকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে এবং বাকি অংশ সিকিম সাম্রাজ্যের সাথে জুড়ে দিয়ে সিকিমকে সংরক্ষিত অংশ হিসেবে স্থান দেয়। অন্যদিকে ইঙ্গ -ভুটান যুদ্ধে ভুটানের হারের ফলে সিঞ্চুলা চুক্তি ( ১১ নভেম্বর, ১৮৬৫) অনুযায়ী কালিম্পং ও তার আশেপাশের অঞ্চল সহ সামগ্রিক ডুয়ার্স ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। যদিও কালিম্পংকে প্রথমে পশ্চিম ডুয়ার্সের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ১৮৬৬তে দার্জিলিং জেলার মানচিত্র সম্পূর্ণ হয়, কালিম্পং-এর অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে।

চলবে…

আরও দেখুন

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি দক্ষিণ দিনাজপুরে, সাহায্য চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ বাম বিধায়ক

Nblive বালুরঘাটঃ দক্ষিণ দিনাজপুরে বন্যা পরিস্হিতির অবনতি। নদীর জল আরও বেড়েছে। আজ বংশীহারি ব্লকের নারায়ণপুরের …