Thursday , June 29 2017
Breaking News
Home / featured / ফ্ল্যাশব্যাকে উত্তর দিনাজপুর – সিকি শতাব্দী পর

ফ্ল্যাশব্যাকে উত্তর দিনাজপুর – সিকি শতাব্দী পর

Nblive ওয়েব ডেস্কঃ  মোঘল আমল থেকেই প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে দিনাজপুর জেলাকে বহু ভাঙা গড়ার মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে হয়েছে। তবে মোঘল আমল থেকে ইংরেজ আমল বরাবরই দিনাজপুর জেলা ছিল তাঁদের কাছে অন্যতম প্রদেশ। ১৮০৭-০৮ সালে দিনাজপুরের তৎকালীন সার্ভেয়ার হ্যামিলটন বুকানণের বিবরণ থেকেও সেই বিষয়টি ছিল পরিষ্কার। তাঁর বিবরণ থেকে জানা যায়, দিনাজপুর জেলা ছিল ৫,৩৭৪ বর্গমাইল আয়তন বিশিষ্ট ত্রিভুজাকৃতি জেলা। নাগর, মহানন্দা, পুনর্ভবা, করতোয়া নদী ছিল এই জেলার প্রাকৃতিক সীমারেখা। সেই সময় জেলায় ছিল ২২টি থানা। কিন্তু ক্রমাগত বেড়ে চলা অরাজকতা ও ডাকাতদের দৌরাত্ম্যের ফলে দিনাজপুর জেলা ভেঙে মালদা ও বগুরা নামে দুটি পৃথক নতুন জেলা গঠিত হয়। এরপর থেকেই প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে ধীরে ধীরে ত্রিভুজাকৃতি দিনাজপুর জেলায় শুরু হয় ভাঙন।এরপর ১৮৬৬ সালের ৭ ডিসেম্বর গঠিত হয় দিনাজপুর মহকুমা এবং ১৯০৪ সালের ৩১ অক্টোবর গঠিত হয় বালুরঘাট মহকুমা। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৩ সালের মধ্যে দিনাজপুর ও মালদা জেলার মধ্যে বেশ কিছু থানার এলাকাগত পরিবর্তন ঘটে। এরপর ১৯৪৭ সালের ভারত বিভক্তকরণের সঙ্গে সঙ্গে দিনাজপুর জেলাও বিভক্ত হয় দুই ভাগে। জেলা সদর সহ জেলার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দিনাজপুর জেলা নাম বজায় রেখে পূর্ব পাকিস্তানভুক্ত (বাংলাদেশ) হয়। ঠাকুরগাঁ ও দিনাজপুর মহকুমার বেশ কয়েকটি থানা ও বালুরঘাট মহকুমার তিনটি থানা পূর্ব পাকিস্তানের ভাগে পড়ে। ১০টি থানা ভারতভুক্ত হয়ে পশ্চিম দিনাজপুর জেলার নাম নেয়। বালুরঘাট, কুমারগঞ্জ, গঙ্গারামপুর ও তপন থানা নিয়ে গঠিত হয় বালুরঘাট মহকুমা। এদিকে রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ, ইটাহার, কুশমণ্ডি, বংশীহারী ও হরিরামপুর থানা নিয়ে গঠিত হয় রায়গঞ্জ মহকুমা।

১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিহারের পূর্ণিয়া জেলার প্রায় ৭৩২.৮৮ বর্গমাইল এলাকা পশ্চিমবঙ্গ ভুক্ত হয়। এই নতুন ভূখন্ড প্রথমে দার্জিলিং জেলায় অন্তর্ভুক্ত হলেও মাত্র একদিনের মাথায় ১৯৫৬ সালের ২ নভেম্বর গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পশ্চিম দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ মহকুমাভুক্ত করা হয়। নতুন এই ভূখন্ড নিয়ে গঠিত হয় আরও চারটি থানা চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর ও করণদিঘি। প্রায় তিন বছরের মাথায় ১৯৫৯ সালের ২০ মার্চ ফের একবার গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা নতুন চারটি থানাকে রায়গঞ্জ মহকুমা এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ইসলামপুর মহকুমা গঠন করা হয়। ১৯৬৪ সালে ইসলামপুর মহকুমায় পঞ্চম থানা হিসেবে গোয়ালপোখর থানাকে ভেঙে গঠন করা হয় চাকুলিয়া থানা।

এইভাবে ভাঙা গড়ার নানা বিবর্তনের মধ্যে ত্রিভুজাকৃতি দিনাজপুর জেলার চেহারা হয়ে যায় অর্ধ চন্দ্রাকৃতি। এরই মাঝে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায় রায়গঞ্জ, ইসলামপুর ও বালুরঘাট এই তিন মহকুমা ও ১৬ টি থানা নিয়ে গঠিত পশ্চিম দিনাজপুর জেলার মধ্যস্থলে অবস্তিত রায়গঞ্জকে জেলার সদর শহর হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিলে বালুরঘাটে প্রবল আন্দোলনের জেরে তা থমকে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৯২ সালের ১ এপ্রিল হিলি, বালুরঘাট, কুমারগঞ্জ, তপন, গঙ্গারামপুর, বংশীহারী, হরিরামপুর ও কুশমন্ডী থানাকে নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর নামে নতুন জেলার আত্মপ্রকাশ ঘটে। এদিকে রায়গঞ্জ ও ইসলামপুর মহকুমার নয়টি থানা নিয়ে গঠিত হয় উত্তর দিনাজপুর জেলা। এরপরেই রায়গঞ্জ লাগোয়া কর্ণজোড়ায় তৈরি হয় উত্তর দিনাজপুর জেলার নতুন প্রশাসনিক ভবন অপরদিকে বালুরঘাটে তৈরি হয় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক ভবন।

আরও দেখুন

সমঝোতা, শর্মিষ্ঠা কুন্ডু

Nblive পোর্টজিনঃ  সমঝোতা/শর্মিষ্ঠা কুন্ডু আড়ালে আছো মেঘের দলে, ফিরতে হবে ভোরের কোলে। থাকবে কত ঘুমের …