Monday , December 18 2017
Breaking News
Home / featured / টোটো চালিয়েই ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চান রায়গঞ্জের মঞ্জু

টোটো চালিয়েই ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চান রায়গঞ্জের মঞ্জু

Nblive রায়গঞ্জঃ মঞ্জু দাস মণ্ডল। সংগ্রাম ও জীবন তাঁর কাছে সমার্থক। বন্ধুর জীবন পথের কঠিন লড়াইয়ে যতবার হেরেছেন ততবারই হার না মানা হারকে সঙ্গী করেই উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এখন টোটোর তিন চাকা ঘুরিয়ে নিজের ভাগ্যচক্র ঘোরানোর সংগ্রাম চালাচ্ছেন বছর তিরিশের এই অভাগী। শক্ত মুঠোয় টোটোর হাতল ধরেন সকাল হলেই। তারপর যাত্রীর খোঁজে চরকিপাক শহরের পথে পথে। ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার করার স্বপ্নভরা চোখ খোঁজে শুধু প্যাসেঞ্জার।

সংসার জীবন সুখের হয়নি। স্বামীর সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয় অচিরেই। মঞ্জুদেবীর কথায়, “হাজারো স্বপ্ন নিয়ে জীবন বেঁধেছিলাম যাঁর সঙ্গে, সেই  মানুষটাও দেখলাম দুশ্চরিত্র, লম্পট, প্রতারক, নেশাসক্ত”। তাই স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে শুরু করেন একলা জীবন। সঙ্গী শুধু দুই বছরের ছেলে আর বিধবা মা। ছেলেকে মানুষ করতে প্রথমে রায়গঞ্জের  কর্ণজোড়ায় ডিএম অফিসের সামনে লটারি ও পান-বিড়ির ঘুমটি দোকান করেন। টানা দশ বছর সেই ব্যবসায়ই করেছেন। কিন্তু দোকান সরকারি জায়গায় হওয়ায় একসময় সেখান থেকে পাততারি গোটাতে হয় তাঁকে। তারপর আবার বেকার জীবন। জীবনের এই কঠিন সময়ে পাশে এসে দাঁড়াননি কেউ। যদি কিছু হয় এই আশায় হেঁটেছেন রাজনীতির মিছিলে। স্লোগান তুলেছেন গলার শিরা ফুলিয়ে। কিন্তু লাভের লাভ হয়নি কিছুতেই। পন্ডশ্রম বন্ধ করে ফের রাস্তা খোঁজেন জীবন ও জীবিকার।

বছর খানেক ধরে এই ত্রিচক্র যানই তাঁর জীবনের একমাত্র চালিকা শক্তি। সকাল ন’টা বাজতেই টোটো নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। শুরু হয় শহরের রাজপথ থেকে গলিপথ ঘুরেঘুরে নিত্যদিনের সংগ্রাম। রাত ন’টায় যখন  ঘরে ফেরেন, ভাড়া বাবদ টোটোর মালিকের পাওনা মিটিয়ে তাঁর হাতে থাকে তিন থেকে পাঁচশ টাকা। এই রোজগারেই ছেলে সুমনকে ইঞ্জিনিয়ার বানানোর স্বপ্ন নিয়ে বাঁচার আনন্দ খোঁজেন মঞ্জুদেবী।

রায়গঞ্জের মতো ছোট  একটি শহরে একজন মহিলাকে টোটো চালাতে দেখে প্রথমদিকে হাসাহাসি করতেন অনেকেই। বাঁকা চোখের চাহনি, এমনকি দুএকটি টিটকিরিও উড়ে আসত কখনও কখনও। কিন্তু লড়াই করাটাই যাঁর জীবনের মূল মন্ত্র তাঁর কাছে এ সবই যে তুচ্ছ তা শহরবাসীকে অল্পদিনের মধ্যেই বুঝিয়ে দিয়েছেন কোনও কিছুকে পরোয়া না করা এই সংগ্রামী নারী।

মঞ্জু বলেন, “স্বামীর সঙ্গে ঘর ভাঙল যেদিন, সেদিনই  আমি বুঝে গিয়েছি এই জীবন-যুদ্ধ আমার একার। জীবন বাঁচাতে এই লড়াই আমাকে লড়তেই হবে এবং জিততেও হবে। এই কঠিন পৃথিবীতে বিপদের দিনে ভরসা করার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাই নিজেই নিজের জীবিকা বেছে নিয়েছি। মানুষের হাসাহাসিকে পরোয়া করি না। কারণ আমার লক্ষ্য একটাই – কোনোরকম খেয়েপড়ে ছেলেটাকে মানুষ করা। তবে নিজের একটা টোটো থাকলে খুব ভালো হতো। হাতে আর দুটো পয়সা বেশি থাকত।  কিন্তু সেই সামর্থ্য কই!

আরও দেখুন

রায়গঞ্জে ঘুষ নিতে গিয়ে গ্রেফতার এজি বেঙ্গলের অডিট অফিসার

Nblive রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জে এজি বেঙ্গলের এক অডিট অফিসারকে ঘুষ নিতে গিয়ে হাতে নাতে ধরল রাজ্য …

একটি মন্তব্য

  1. Salute for this struggling woman inwoman’s day.