Home > featured > ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে--- সুকুমার বাড়ই
IMG 20180618 WA0017 660x330 - ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে--- সুকুমার বাড়ই

ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে--- সুকুমার বাড়ই

NBlive পোর্টজিনঃ

 

ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে

--- সুকুমার বাড়ই

আমার স্ত্রীর মাতুলালয় ঢাকার মহম্মদপুরে। এমন সুযোগ কেউ ছাড়ে ? এমনিতেই মামার বাড়ির আদর প্রবচন প্রসিদ্ধ। তার উপর স্রেফ ভাগ্নে নয়, ভাগ্নে-জামাই বলে কথা ! আদরে-আহ্লাদে আটখানা হতেই হবে। অতএব শুভস্য শীঘ্রম। ঢাকা ভ্রমণের সুপ্ত বাসনা আর ঢেকে রাখতে পারলাম না। পারি দিয়েই দিলাম পূবের দেশে। দিনাজপুর পৌঁছেছিলাম আগের দিন। দিনভর দিনাজপুর শহরে কাটিয়ে রাত ১১ টায় উঠে পড়লাম ট্রেনে। একতা এক্সপ্রেস। ঢাকা পৌঁছাল পরের দিন সকাল ৯ টায়।
ভ্রমণের বেশীরভাগ সময়ের সঙ্গী হয়েছিলেন ছোট মামা জয়ন্ত সরকার। ঐদিন খাওয়া দাওয়া সেরে নিজের চোখে ঢাকা শহর দেখার স্বপ্ন পূরণে বেড়িয়ে পরি। পড়ন্ত বিকেলে প্রথমে ঢাকার জনপ্রিয় বাহন রিক্সায় চেপে পৌঁছে যাই ওখানকার ঐতিহ্যবাহী “আবাহনী ক্রীড়া চক্র” মাঠে। মামার মুখে এখানকার অনেক স্মৃতি বিজড়িত কাহিনী শুনে মুগ্ধ হই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই অর্থাৎ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বড়ছেলে শেখ কামাল এই ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেন।

IMG 20180618 WA0004 - ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে--- সুকুমার বাড়ই

বঙ্গবন্ধুর ধানমুণ্ডির বাড়িঃ

এরপর ধানমুন্ডির ৩২ নং সড়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাড়ি দেখতে যাই। বাড়ির সামনে দাঁড়াতেই গা কেমন যেন শিউরে উঠছিল। মনে হচ্ছিল ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করি। বাড়িটি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর নামে পরিচিত। এই বাড়িতেই একসময় বাঙালী জাতির মুক্তি সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবর তাঁর পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি এই বাড়িতেই বসবাস করতেন। ভেতরে ঢুকে দেখতে পাই মিউজিয়ামের সম্প্রসারিত অংশে তৈরি হয়েছে একটি চিত্র-সংগ্রহশালা। এখানে দেখা গেল মুজিবের শৈশবকাল, রাজনৈতিক জীবন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন বিভিন্ন কর্মকান্ডের মালাগাঁথা চিত্রকথা। তিনটি তলা জুড়েই ছিল এই চিত্রকথা। দেখে বুঝতে ও জানতে পারা গেল তাঁর জীবনের অজানা বর্ণময় রাজনৈতিক কর্মগাঁথা।

 

এখানেই মুজিবের রক্তঃ

এবারে মুজিবের মূল বাসভবন দেখা। এই বাসভবনকে বাংলাদেশ সরকার জাদুঘর করেছে। তিনতলা এই বাড়িটিতে নীচতলায় বঙ্গবন্ধুর বসার ঘর ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়াদি। দোতলায় থাকার ঘর। এই ঘরে প্রবেশ করা মাত্রই সকলের মন ভারাক্রান্ত হয়ে গেল। দেখা গেল বিভিন্ন দেওয়ালে গুলির চিহ্ন। জানা গেল সারাজীবন ধরে যে মানুষটি বাঙালিদের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে গেছেন, দেশ স্বাধীন করেছেন- সেই তাঁকে গুলিবিদ্ধ হতে হয় কতিপয় দুষ্কৃতীদের হাতে। তাঁর গুলিবিদ্ধ দেহ যে সিঁড়ির উপর পড়েছিল- সেখানে গিয়ে সকলে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। মন বলে এও কি সম্ভব? বিষন্ন মনে এদিক ওদিক এই ধ্বংস চিহ্ন দেখে আর ভালো লাগছিল না। ধীর পায়ে নীচে নামতে থাকি। ওখান থেকে বেড়িয়ে এসে কিছুক্ষণ বাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল এই বুঝি বঙ্গবন্ধু বেলকনিতে বেড়িয়ে এসে জনগণকে নির্দেশ দেবেন। বাড়ির সামনে লেক, কৃষ্ণচূড়া গাছ –একটি প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে নিজেকে সামলাতে থাকি। ওখান থেকে জাতির জনকের একটি স্মৃতি অ্যালবাম ক্রয় করে বেড়িয়ে পরি পরবর্তী গন্তব্য স্থলের দিকে।

 

IMG 20180618 WA0005 - ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে--- সুকুমার বাড়ই

সংসদ ভবনঃ

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। মানিক মিঞা অ্যাভেনিউ এর উত্তর পাশে বিশাল এলাকা জুড়ে এই সংসদ ভবন চত্ত্বর। এর দক্ষিণ দিকে এম পি হোস্টেল দেখা যায়। সংসদ ভবনের গঠন শৈলী দৃষ্টি নন্দনীয়। জানা গেল এটির নকশা করেছিলেন আমেরিকার বিশিষ্ট স্থপতি লুইক্যান। সংসদ এলাকা ঘুরতে ঘুরতে উত্তরদিকে চলে আসি। সেখানে দেখতে পেলাম সংসদ ভবনটি জলের উপর অবস্থিত। চার পাশে জল আর জল। নিরাপত্তার কারণে বোধকরি এরূপ গঠন। সংসদ ভবনের উত্তর দিক বরাবর একটি হ্রদ চোখে পড়ল। হ্রদটির পাড় দিয়ে একটি সুন্দর উদ্যান বানানো হয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে। হ্রদটির উপর একটি আধুনিক ডিজাইনের সেতু নির্মিত হয়েছে। সেতু পার হলে যে উদ্যান চোখে পড়ল তাঁর নাম চন্দ্রিমা উদ্যান। এই উদ্যানের ভেতর প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর। বহু দর্শকের ভিড় এখানে। ঘুরতে ঘুরতে পশ্চিম দিকে এলাম। দেখলাম ওদেশের প্রধানমন্ত্রীর আবাসভবন যা গণভবন নামে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন। তাই ঐ চত্বরে নিরাপত্তার বেশ কড়াকড়ি চোখে পড়ল।

 

IMG 20180618 WA0007 - ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে--- সুকুমার বাড়ই

মোতিঝিলঃ

পরদিন সকাল ১০ টাতেই অটোরিক্সা সহযোগে বেড়িয়ে পরি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্র মোতিঝিলের উদ্দেশ্যে। ওখানকার প্রধান সরকারী ব্যাঙ্ক সোনালি ব্যাঙ্ক থেকে ভ্রমণ কর জমা দিয়ে বেড়িয়ে পরি। ওখানে বিভিন্ন মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর গগনচুম্বী ভবন দেখে মুগ্ধ হই। রাষ্ট্রপতি ভবনের কিছু অংশ দেখার সুযোগ ঘটে যায়। ওখান থেকে প্রেস ক্লাব হয়ে চলে আসি হাইকোর্টের পাশ দিয়ে স্বনামধন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদে। এটি কার্জন হল নামে খ্যাত। লাল ইটের বিভাগগুলি দেখতে খুব সুন্দর লাগছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে পরিষ্কার রাস্তা। তার পাশ দিয়ে সারিবদ্ধ বিভিন্ন ফুলগাছের নানা রঙের ফুলগুলি পথচারীদেরকে বাসন্তিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। দেখলাম কার্জন হলের মূল ভবন। এই ভবনের হলঘর থেকে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জিন্না ঘোষণা করেন, “ Urdu, Urdu and Urdu shall be the State Language of Pakistan.” এই ঘোষণার পরই ছাত্র- জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। উল্লেখ্য এখান থেকেই ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত।

শহীদ মিনারঃ

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগ দেখতে দেখতে এসে পৌঁছাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে। পথ মাঝে দেখতে পাই নানা শৈল্পিক সুষমায় তোরণ তৈরি হয়েছে ভাষা শহীদদের নামে।পথের মাঝখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারু কলা বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা আন্তরিকতার সাথে আলপনা আঁকছে। এই কাজে আবেগ মোহিত হয়ে আমিও তাদের শরিক হলাম। হাতে তুলি নিয়ে কিছু সময় আলপনাতে রঙ টানলাম। এ এক আলাদা অনুভূতি। সারা রাস্তা ভীষণ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ছেয়ে গেছে গোটা চত্বর । শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ধুয়ে মুছে রঙ দিয়ে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। রাস্তার পাশে প্রাচীরগুলিতে বিভিন্ন কবির মাতৃভাষার গুরুত্ব বিষয়ে বিভিন্ন কবিতার লাইন লিপিবদ্ধ হয়েছে। সামগ্রিকভাবে একটি অন্যরকম অনুভূতি নিয়ে ফিরে এলাম ওখান থেকে।

IMG 20180618 WA0009 - ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে--- সুকুমার বাড়ই

একুশে ফেব্রুয়ারিঃ

এবারের গন্তব্যস্থল বাংলা একাডেমী আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থ মেলা-২০১৮। প্রতি বছর মা ভাষা মাসে ১ মাস ধরে চলে অমর একুশে গ্রন্থ মেলা।
বাংলা একাডেমীর মূল প্রাঙ্গণে ছিল ম্যাগাজিনের ও অন্যান্য বইয়ের মেলা। এই চত্বরে ছিল লেখক কুঞ্জ ও মোড়ক উন্মোচন কক্ষ। লেখক কুঞ্জে কবি-লেখকদের আড্ডা । মোড়ক উন্মোচন কক্ষে নতুন গ্রন্থ প্রকাশের ব্যবস্থা । মাইকে ভেসে আসছে অমর একুশের গান। এখানের আলোচনা অঙ্গনে বিভিন্ন বিষয়ে চলছে আলোচনা। পাশেই সোরাওয়ার্দি উদ্যানে মূলত বড় বড় প্রকাশনীর স্টল এবং প্যাভেলিওন।

IMG 20180618 WA0008 - ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে--- সুকুমার বাড়ই
লিটল ম্যাগাজিন চত্ত্বর

বিশাল এলাকা জুড়ে এই গ্রন্থ মেলা। প্রচুর জনসমাগম। এর পাশেই ছিল সাংস্কৃতিক অঙ্গন। সেখানে ২১ এর নাচ, গান ও নাট্য উৎসব ছিল আবেগ ভরা। এক মাস ধরে চলে নাটকের আসর। ২১শে ফেব্রুয়ারি রাত তখন ১২.০১ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে লোকে লোকারণ্য। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এইভাবে পদ মর্যাদা অনুসারে শহীদ বেদীতে পুস্পার্ঘ প্রদান চলতে থাকে। ওইদিন সকাল ৯ টায় বেড়িয়ে পরি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির দেখতে। এখানকার দুর্গাপুজা ভীষণ নামকরা। সমগ্র ঢাকার মানুষ মেতে ওঠে এই পুজায়। মন্দিরের নিয়মনিষ্ঠা দেখে মুগ্ধ হই। সবচেয়ে ভালো লাগলো যখন দেখলাম হিন্দু-মুসলমান একসাথে মন্দিরে পূজা দিচ্ছে। বোরখা পরা এক মহিলা বলেন, সে মাঝে মাঝেই পূজা দিতে আসেন এখানে। ঢাকা শহর জুড়ে জাতীয় উৎসব চলছে। এদিন বাংলাদেশের জাতীয় ছুটির দিন। সমস্ত প্রতিষ্ঠানে অর্ধনিমিত রাখা হয়েছে জাতীয় পতাকা।

IMG 20180618 WA0010 - ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে--- সুকুমার বাড়ই
বই মেলায়

 

স্কুল,কলেজে ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় ভাষা শহীদ দিবস। মনের টানে আবার ফিরে আসি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনজোয়ার শুরু হয়েছে। কাতারে কাতারে মানুষ তাদের অন্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। দীর্ঘ লাইন। এবার নিজেও শ্রদ্ধা জানাই। বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সংগঠন তাদের সংস্থার ব্যানারসহ আসে শ্রদ্ধা জানাতে। সাধারণ মানুষের ঢল চোখে পড়ল। সকলে বিনম্র শ্রদ্ধা জানায়। সারাটা দিন কিভাবে যে কেটে গেল বুঝতেই পারিনি।

বুড়ি গঙ্গার বুকেঃ

 

IMG 20180618 WA0011 - ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে--- সুকুমার বাড়ই

পুরনো ঢাকাতে রয়েছে বিশাল নবাব-প্রাসাদ। এখানে মিউজিয়াম করা হয়েছে। বেশ পয়পরিস্কার এই নবাব বাড়ি। পাশেই বুড়ি গঙ্গা নদী। এই ঘাট ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র। নদীতে বহু জাহাজ দেখা গেল। বিভিন্ন জেলা থেকে মালপত্র আসছে এখানে। একটি ছোটো নৌকো ভাড়া করে নদীতে ভাসতে থাকি। মাঝ নদী থেকে পুরনো ঢাকা শহর বেশ লাগছিল দেখতে। এখানে কাপড়চোপড়ের দোকান ভর্তি। পাশে সোনা পট্টিতে এলাম। সারি সারি সোনার দোকান। জানলাম বিদেশ থেকে এখানে সোনা আসে। ঐ সোনা আবার ব্যবসায়ীরা দেশে এবং বিদেশে বিক্রি করেন। একটি কালী মন্দির দেখলাম সোনা বাজারের ভেতরে। কালীর সারা দেহে সোনার অলংকারে ছেয়ে আছে। এরপর আসি জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। উপাচার্য অধ্যাপক মিজানুর রহমান মহাশয়ের সাথে কথা হল। অমায়িক ব্যবহার তাঁর। এখানকার ভাষা শহীদ মিনারটি অন্যরকম শিল্প নৈপুন্যে গড়া। পাশেই ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের স্মৃতিফলক । এখানে ইংরেজরা প্রচুর বিদ্রোহীদের হত্যা করেছিল। স্মৃতিফলক ঘেরা উদ্যানে খানিকক্ষণ সময় কাটাই। মনে হচ্ছিল ইতিহাসের সরণি বেয়ে চলছি। দেখলাম ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ। ঐতিহ্যবাহী এক্কা গাড়ি দেখার সৌভাগ্যও হল। কি সুন্দর লাগছিল এক্কা গাড়িটি।

 

জ্ঞানবৃক্ষের তলেঃ

দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে আবার বইমেলাতে ফিরে এলাম। জমে উঠেছে বইমেলা। প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছে। ভাল লাগল দেখে যে বেশির ভাগ দর্শকের হাতে বই। বইমেলাতে আলাপ হল শায়লা হাফিজ নামে এক কবি –সাহিত্যিক এবং পত্রিকা সম্পাদকের সাথে। এত ভালো ব্যবহার না দেখলে বিশ্বাস হবে না। তাঁর “এখন ও এখনো” নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আমায় দিলেন। দিলেন তাঁর সম্পাদিত বেশ উন্নতমানের মাসিক পত্রিকার একটি সংখ্যা “সহজ”। শুনছিলাম ওদিনের আলোচনা মঞ্চে কথা সাহিত্যিক শওকত আলী সম্পর্কে আলোচনা। জানলাম ওনার জন্ম উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ শহরে। অনেক সময় ধরে দেখলাম বর্ধমান হাউসে বাংলা একাডেমীর ভাষা জাদুঘর। দারুণ লাগছিল এই জাদুঘরের প্রতিটি মূল্যবান নথিপত্র। বাংলা ভাষার বিকাশের একটি বিশাল সফর করি এখানে।

সফরের তৃতীয় দিনে এশিয়াটিক সোসাইটিতে ইতিহাস একাডেমী ঢাকার উদ্যোগে ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিই। কর্তৃপক্ষের আতিথেয়তা ছিল অসাধারণ । সম্মেলন থেকে বেড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগ পরিদর্শন করি। প্রতিটি বিভাগ দেখতে দারুণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামের কথা আগেই জানতাম। এবার নিজে কিছুটা দেখার সুযোগ পেলাম। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও গণিত বিভাগ দেখলাম। বই মেলা চত্বরের পাশ দিয়ে শেহবাগ পৌঁছাই। এই ঐতিহাসিক জায়গায় খানিকক্ষণ থামি। এরপর বসুন্ধরা শপিংমলে যাই। বিশাল বহুতলীয় এই শপিং মলটি অত্যাধুনিক ভাবে তৈরি।

 

IMG 20180618 WA0012 - ঢাকা শহর আইসা আমার পরাণ জুড়াইছে--- সুকুমার বাড়ই
পুরানো ঢাকাতে নবাব বাড়ি

ফেরাঃ

এবার ঘরে ফেরার পালা। সকালে নাবিল পরিবহণের বাসে চেপে যাত্রা শুরু করি দিনাজপুর অভিমুখে। টাঙ্গাইল, যমুনা সেতু দেখতে দেখতে শেরপুর বগুড়া ফুলবাড়ি হয়ে অবশেষে রাত ১১টায় দিনাজপুর পৌছাই। ওখানকার বন্ধু বাবলু ভাই, জামান ভাই এদের সাথে আড্ডা দিয়ে পরের দিন ফিরে আসার পরিকল্পনা করি ।
সকালের আহার সেরে বেড়িয়ে পরি রায়গঞ্জের দিকে। সঙ্গে ছিলেন দিনাজপুরের দিন বন্ধু। যাঁদের কথা কোনদিনই ভোলা সম্ভব নয়।
আজও বাংলাদেশ ভ্রমণের স্মৃতি বয়ে বেড়াই। কবিকে স্মরণ করে শেষ করি- “দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইলো না, রইলো না, সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।” হৃদয়ে আজও গুনগুন করে “ আবার আসিব ফিরে------ এই বাংলায়।”

আরও দেখুন

IMG 20190217 WA0001 310x165 - 'শহীদ জওয়ানদের মৃত্যুর বদলা নিতে চাই', প্রধানমন্ত্রীকে ট্যুইট রায়গঞ্জের যুবকের

'শহীদ জওয়ানদের মৃত্যুর বদলা নিতে চাই', প্রধানমন্ত্রীকে ট্যুইট রায়গঞ্জের যুবকের

  NBlive রায়গঞ্জঃ জঙ্গীদের নিধন করে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় শহীদ জওয়ানদের মৃত্যুর বদলা নিতে চান। যোগ …